প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 16, 2026 ইং
বাসে মলম পার্টির শিকার বৃদ্ধ ৩ দিন পর উদ্ধার, পরিবারের কাছে হস্তান্তর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি শেখ সাদী সুমন
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড় এলাকায় চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া মলম পার্টির শিকার মো. মোফাজ্জল শেখ (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে। ৩ দিন অজ্ঞাতনামা হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তার পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর'।
ভুক্তভোগী মোফাজ্জল শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের পজলুশা গ্রামের মৃত ভুলাই শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বাবুর্চি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন (শুক্রবার) দুপুরে মোফাজ্জল শেখ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বড় মেয়ের বাসা থেকে নরসিংদী হয়ে জামালপুরে বোনের বাড়ির উদ্দেশ্যে 'এনপি পরিবহন'-এর একটি বাসে ওঠেন।
পথিমধ্যে তিনি বাসের ভেতরেই মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন। চক্রটি তার চোখে-মুখে চেতনানাশক লিকুইড বা মলম দিয়ে তার সাথে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুটে নেয়। পরে দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিশ্বরোড মোড়ে অচেতন অবস্থায় তাকে চলন্ত বাস থেকে মহাসড়কে ফেলে দিয়ে বাসটি পালিয়ে যায়।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সেখানে কর্মরত আল আমিন নামের এক সড়ক নির্মাণ শ্রমিক খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় খবর দেন। পরে হাইওয়ে থানার ওসির সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর’কে অবহিত করলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা ও ওষুধের দায়িত্ব নেওয়া হয়। গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে বৃদ্ধের জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন।
এদিকে ভুক্তভোগী নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছোট মেয়ে রিমা আক্তার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। পরবর্তীতে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদের দ্রুত ও আন্তরিক তৎপরতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসাধীন বৃদ্ধের সন্ধান পায় পরিবার।
গত ১৪ জুন (রবিবার) দুপুরে মোফাজ্জল শেখের দুই মেয়ে, বোন ও জামাতাসহ পরিবারের সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। পরে বাতিঘরের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন জানান, "অজ্ঞাত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে দূরপাল্লার বাসে যাত্রীবেশে মলম পার্টির এই অপতৎপরতা বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও পরিবহন মালিক সমিতিকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।"
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার উদ্ধারকারী শ্রমিক, হাইওয়ে পুলিশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা