মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর, গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে মাওনা ইউনিয়নের মানসুরাবাদ এলাকায় ব্যাটারি থেকে সীসা (লেড) সংগ্রহ ও গলানোর একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যে মানুষের পাশাপাশি গৃহপালিত পশু-পাখি এবং আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
মাওনা-কালিয়াকৈর আঞ্চলিক সড়কের পাশে ইদ্রিস পার্ক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এ কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি পোড়িয়ে সীসা আলাদা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে উৎপন্ন কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কারখানাটি চালু হওয়ার পর থেকে বাতাসের মান খারাপ হয়ে গেছে। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বলেন, “দিন-রাত সীসা পোড়ানো হয়। কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি গৃহপালিত পশুরাও ক্ষতির মুখে পড়ছে। দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন।”
কারখানার এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জীবিকার তাগিদে এখানে কাজ করি। কিন্তু ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে অনেক সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কাজের পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা সাদির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, “এর আগে প্রশাসনের উদ্যোগে কারখানাটি বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু আবারও এটি চালু করা হয়েছে। রাতে একাধিক চুল্লিতে সীসা পোড়ানো হয়। এতে পুরো এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থার প্রতিবাদে আমরা মানববন্ধনের আয়োজন করেছি।”
মাওনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুস সাত্তার বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম মানুষের জীবন, গৃহপালিত প্রাণী ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।”
পরিবেশবাদীরা বলছেন, সীসা পোড়ানোর ফলে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে মাটি ও পানিদূষণের মাধ্যমে কৃষিজমি, ফসল, জলজ প্রাণী এবং জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, “সীসা পোড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক ও পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের কারখানা পরিচালনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ইসলাম ভূঞা বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনস্বার্থে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিবেশদূষণকারী এ কার্যক্রম বন্ধ করে মানুষের জীবন, প্রাণিকূল ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা
এ জাতীয় আরো খবর...