জালাল উদ্দিন, পেকুয়া প্রতিনিধি;
মৎস্য ও লবন চাষের চারণভূমি নামে খ্যাত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদিয়া ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নে রয়েছে হাজার হাজার একর মৎস্য খামার ও লবণ মাঠ । এ দু এলাকার শতকরা ৯০ ভাগ ভূমিতে মৌসুম ভিত্তিক মাছ, লবণ, ধান ও বিভিন্ন প্রকারের সবজি চাষ হয়।
মৎস্য ও লবণ ভান্ডার নামে খ্যাত করিয়ারদিয়া ও মাতারবাড়ি। চট্রগ্রাম বিভাগের মানুষের মাছের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানী হয় এ এলাকার উৎপাদিত চিংড়িমাছসহ বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ। করিয়ারদিয়া ও মাতারবাড়িতে প্রায় ২০ হাজারের অধিক মানুষের বসবাস। মানুষের নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী এবং সামাজিক ও ব্যবসায়িক কাজে অত্যাধিক ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয় প্রতিদিন সহস্রাধিক সাধারণ নারী,শিশু-পুরুষকে ও শিক্ষাপ্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের।
করিয়ারদিয়া পেকুয়ার ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারী রাখাও কষ্টকর হয়। ফলে এ অর্থনৈতিক এলাকার চাষী ও ব্যবসায়ীদের পড়তে হয় ডাকাতের কবলে। ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব। ডাকাতদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে ঝরেছে বেশ কয়েকটি তাজা প্রাণ। আবার সময়ে সময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দিতে হয় মাসোহারা।
বিচ্ছিন্ন এ দ্বীপের অধিবাসী ও চাষীদের জন্য নিরাপদ এলাকায় পরিণত করতে হলে সহজে প্রশাসনিক তদারকির স্বার্থে সেতু নির্মাণ অপরিহার্য। অন্যদিকে মাতারবাড়ি ইউনিয়নটি মহেশখালী উপজেলার হলেও উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী রপ্তানী হয় পেকুয়া হয়ে চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। এসব পণ্য উৎপাদন ও পরিবহণে শ্রমিক নিয়োজিত হয় পেকুয়ার উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর সাধারণ দিন মজুরেরা।
চাষীদেরকে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে নদী পারাপারের সময় নিয়োজিত করতে অতিরিক্ত শ্রমিক এবং পরিবহণ খরচে গুণতে হয় বাড়তি খরচ। ফলে চাষীদের ভূগতে হয় লাভের চাইতে ক্ষতির বোঝা নিয়ে। তাদের এ ভোগান্তি লাগবে এবং পেকুয়া-মহেশখালীর সংযোগ স্থাপনে একটি বহুমূখী সেতু নির্মাণ অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ যেমন আন্তঃবাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তেমনি যোগান্তকারী পদক্ষেপে পরিণত হবে। তাইতো অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছে করিয়ারদিয়া ও মাতারবাড়ির হাজার হাজার খেটে খাওয়া জনগণ।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে তাদের একটাই চাওয়া পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সাথে করিয়ারদিয়া ও মাতারবাড়ির সংযোগে বহুমূখী সেতু নির্মাণ। তারা এবার আশায় বুক বেঁধে আছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেবেন ১৪ জুন চকরিয়া বাসটার্মিনালের জনসভায়।
উজানটিয়া ইউনিয়ন বি এন পি'র সাধারণ সম্পাদক ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ করিয়ারদ্বিয়া ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাফর আহমদ জানান,পেকুয়া তথা উজানটিয়ার এক মাত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল নামে খ্যাত বিচ্ছিন্ন করিয়ারদিয়া। এটির চতুর্পাশে নদী বেষ্টিত হওয়ায় পেকুয়া ও উজানটিয়ার প্রশাসনিক কর্মকান্ডের আওতায় আনা যায় না। ফলে অপরাধীরা অপরাধ সংঘঠিত করে পার পেয়ে যায়। মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়েও তাদের আটক করা সম্ভব হয় না।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময়ী এ অঞ্চলকে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ রাখতে এবং এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুবিধার্থে করিয়ারদিয়া ও উজানটিয়ার সাথে সংযোগ সেতু নির্মাণ অতীব জরুরী। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর কাছে করিয়ারদিয়াবাসীর পক্ষ হয়ে দ্রুত সংযোগ সেতু নির্মাণের ঘোষণার দাবী করছি।
উল্লেখ্য বিগত ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর কক্সবাজারের উন্নয়নের প্রবাদ পুরুষ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সংযোগ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু দেশের উন্নয়ন বিরোধী কিছু ষড়যন্ত্রকারীদের রোষানলে পড়ে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি।
আবারো এদেশের জনগণ বি এন পি'র উপর আস্থা রেখেছে।
জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে এ সংযোগ সেতু নির্মাণ করে কিছুটা হলেও জনগণের ভালবাসার প্রতিদান দেয়া হউক।
মাতারবাড়ি ইউনিয়ন বি এন পি সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোছন জানান,মাতারবাড়ি ইউনিয়নটি মহেশখালী উপজেলার আওতাধীন হলেও এখানের উৎপাদিত সকল পণ্য রপ্তানি করতে হয় উজানটিয়ার উপর দিয়ে চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়। নদীর উপর সংযোগ সেতু না থাকায় পরিবহণ খরচ হয় দ্বিগুণ।
এতে চাষী ও ব্যবসায়ীদের লাভের চাইতে লোকসান গুনতে হয় বেশি। সেতু নির্মিত হলে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ অর্ধেকে নেমে আসবে। ফলে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান এবং এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে বিরাজ করবে আর্থিক সচ্ছলতা। যেহেতু বর্তমান সরকার এদেশের গণমানুষের সরকার। তাই এ অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে মাতারবাড়ির সাথে উজানটিয়ার সংযোগ সেতু নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য বিগত ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর কক্সবাজারের উন্নয়নের প্রবাদ পুরুষ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সংযোগ সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু দেশের উন্নয়ন বিরোধী কিছু ষড়যন্ত্রকারীদের রোষানলে পড়ে সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। আবারো এদেশের জনগণ বি এন পি'র উপর আস্থা রেখেছে। জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে এ সংযোগ সেতু নির্মাণ করে কিছুটা হলেও জনগণের মনে স্বস্তির বিকাশ ঘটুক।
এ জাতীয় আরো খবর...