মো: মাজাহারুল ইসলাম জামালপুর প্রতিনিধি :
জামালপুরের ডিটিআরসি-তে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সভায় 'জেসমিন' প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন, শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি উন্নয়নের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, জেন্ডার ইনক্লুসিভ মার্কেট সিস্টেমস ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন বা জেসমিন প্রকল্প ২০২৩ সাল থেকে জামালপুর জেলার ৪টি উপজেলায় (সদর, মেলান্দহ, ইসলামপুর এবং দেওয়ানগঞ্জ) কাজ করছে। এটি মূলত অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় অস্ট্রেলিয়ান এনজিও কো-অপারেশন প্রোগ্রামের (এএনসিপি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত এনএসভিসি প্রকল্পের (২০১৮-২০২৩) বর্ধিত অংশ। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংঘের যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি বর্তমানে এই উপজেলাগুলোর ২৮টি ইউনিয়নে ২৫,০০০ প্রান্তিক কৃষক পরিবার নিয়ে কাজ করছে।
সভায় উপস্থাপিত মিড-টার্ম বা মধ্যবর্তী মূল্যায়নের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভ্যালু চেইন কার্যক্রমের ফলে কৃষকদের আয় সার্বিকভাবে ৫৭.৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সচেতনতায় অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। সুষম খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক পর্যাপ্ত জ্ঞানের হার বেজলাইনের ৩৯.৫% থেকে বেড়ে ৭৮.৬%-এ উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস ৩৫% থেকে বেড়ে ৯৪.৫% হয়েছে। কৃষি ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ১০.৭% থেকে বেড়ে ৬৫.৩%-এ দাঁড়িয়েছে, যা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় একটি বড় মাইলফলক।
আলোচনায় ৬০টি 'স্মার্ট কিশোরী ক্লাব'-এর প্রায় ১৫০০ কিশোরী সদস্যের অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এই কিশোরীরা ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে কৃষকদের রোগবালাই শনাক্ত করতে সহায়তা করছে এবং নিজ নিজ পরিবার ও সমাজে পুষ্টি, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সভায় শিশু সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দূরীকরণে ওয়ার্ল্ড ভিশনের বৈশ্বিক প্রচারাভিযান “এনাফ”-এর বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। শিশু ক্ষুধা, অপুষ্টি, শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ শিশুর পুষ্টিগত উন্নয়নের লক্ষ্যে এই ক্যাম্পেইন কাজ করছে
এ জাতীয় আরো খবর...