শেখ সাদী সুমন জেলা, প্রতিনিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা এক বৃদ্ধা হজযাত্রীর সৌদি আরবে ফেলে আসা লাগেজকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা। লাগেজ উদ্ধারের জের ধরে স্থানীয় দুটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ও থেমে থেমে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টা থেকে উপজেলা সদরের কদমতলী এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘাতের সূত্রপাত হয়। দেশীয় অস্ত্রের মহড়া আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা নারী চলতি বছর 'কসবা হজ কাফেলা'র মাধ্যমে হজে যান। দেশে ফেরার সময় ভুলবশত তিনি তার একটি লাগেজ সৌদি আরবে ফেলে আসেন। ওই লাগেজ ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বৃদ্ধার ক্ষুব্ধ পরিবার হজ এজেন্সিতে গিয়ে চড়াও হয় এবং তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু এজেন্সি কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেয়, লাগেজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব হজযাত্রীর নিজস্ব, এতে এজেন্সির কোনো দায় নেই।
এই নিয়ে এজেন্সির সাথে ওই পরিবারের চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে বৃদ্ধার ক্ষিপ্ত স্বজনরা হজ এজেন্সির কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই ভাঙচুর ও শোরগোলের জের ধরেই ঘটনার মোড় নেয় গ্রাম্য সংঘাতের দিকে। আজ শনিবার সকালে আড়াইবাড়ি ও শাহপুর গ্রামের শতশত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কদমতলি এলাকায় এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, ফেলে আসা লাগেজ উদ্ধার ও এজেন্সিতে ভাঙচুরের ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। এলাকায় নতুন করে সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর...