নয়নপুরে চোরাকারবারিদের দুঃসাহস: বিজিবিকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি, কেড়ে নিল জব্দ করা গাড়ি!
গুলি করার মতো পরিস্থিতি, রক্তপাত এড়াতে পিছু হটল ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি
শেখ সাদী সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধী:
সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলার নয়নপুর বাজারে বিজিবি সদস্যদের অবরুদ্ধ করে এবং 'মব' (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) লেলিয়ে দিয়ে জব্দকৃত চোরাই পণ্যের পিকআপ ভ্যান ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা। বুধবার দুপুরে কসবার নয়নপুর বাজারে বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সাথে চোরাকারবারিদের এই তুমুল ধস্তাধস্তি ও নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের রক্তপাত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জব্দ করা গাড়িটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বিজিবি সদস্যরা। State বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ হামলায় এলাকায় চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিভিন্ন চোরাই পণ্য নয়নপুর বাজারের কয়েকটি গোপন গুদামে মজুদ করে আসছিল। পরে সুযোগ বুঝে এসব চোরাই মাল গাড়িযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হতো। বুধবার দুপুরে কয়েকজন চোরাকারবারি একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য পাচারের চেষ্টা করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা সেখানে ঝটিকা অভিযান চালান এবং চোরাই পণ্যসহ গাড়িটি হাতেনাতে জব্দ করেন।
পণ্য জব্দের পরপরই চোরাকারবারি চক্রটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা চোরাই পণ্যগুলোকে 'বৈধ' দাবি করে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিজিবি সদস্যদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যদের সাথে তাদের তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
এর মধ্যেই চোরাকারবারিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘটনাস্থলে জড়ো করে একটি 'মব' বা উগ্র জনতা তৈরির অপচেষ্টা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শফিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "চোরাকারবারিরা সংঘবদ্ধ হয়ে মব সৃষ্টি করে জব্দকৃত গাড়িটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে গুলি করার মতো চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং বড় ধরনের রক্তপাত এড়াতে আমরা অত্যন্ত ধৈর্য ধারণ করি এবং বাধ্য হয়ে জব্দকৃত গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।"
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর এমন দুঃসাহসিক হামলার চেষ্টা এবং চোরাই মাল ছিনতাইয়ের ঘটনার পর চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
এ জাতীয় আরো খবর...